হাওজা নিউজ এজেন্সি: এক বিবৃতিতে আয়াতুল্লাহ শেখ ঈসা কাসেম বলেন, বাহরাইনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো কেবল কিছু ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মাধ্যমে শরিয়ত নির্ধারিত কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ফলে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ছে, যা ধর্মীয় অধিকার ও শরিয়তের বিধান পালনের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রথমে দুই বছরের মেয়াদি অনুমতিপত্র নেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এসব দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় প্রচার ও বক্তৃতা দেওয়ার মতো কার্যক্রম। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এসব কার্যক্রম চালিয়ে যেতে নতুন করে সরকারি অনুমতির আবেদন করতে হবে।
আয়াতুল্লাহ কাসেমের মতে, এই ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া বা তাঁদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নয়। বরং নির্ধারিত মেয়াদ শেষে তাঁদের ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা সরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টা।
তিনি এসব সিদ্ধান্তকে মহান আল্লাহর অধিকার, পবিত্র ইসলামের বিধান ও পবিত্র কোরআনের শিক্ষার সঙ্গে স্পষ্ট সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ধর্মীয় কার্যক্রমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে এবং আলেম ও ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শরিয়তসম্মত দায়িত্ব পালনের ভূমিকা বাধাগ্রস্ত করে।
বাহরাইনের ইসলামি আন্দোলনের এই নেতা সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে ও স্পষ্টভাবে বাতিল করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে যদি এগুলো নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা সংশোধন করা জরুরি। তবে সিদ্ধান্তগুলোর প্রকৃত স্বরূপ ও ক্ষতিকর পরিণতি স্পষ্ট হওয়ার পরও সেগুলো বাস্তবায়নে অনড় থাকলে গুরুতর পরিণতি দেখা দিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিবৃতির শেষাংশে আয়াতুল্লাহ কাসেম শরিয়তের বিধান পালনের মতো ধর্মীয় কর্তব্যকে সরকারি সিদ্ধান্তের অধীন করার বিপজ্জনক দিক তুলে ধরেন। তিনি এ সমস্যার এমন সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে শরিয়তের বিধানের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে এবং মহান আল্লাহ যেসব বিষয় পালন করা ফরজ করেছেন, সেগুলো পালনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়।
আপনার কমেন্ট